অবাক পৃথিবী! প্রতিবছর এই এলাকায় আকাশ থেকে বৃষ্টির মত ঝরে পড়ে শয়ে শয়ে মাছ

228

বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আকাশ থেকে ঝরে পড়ে মাছ। এলাকায় মৎস্য বৃষ্টি নামেই এই ঘ’টনা পরিচিত। শুনতে নিশ্চয়ই অ’বাক লাগছে। কিন্তু এই ধ’রাধামে এমন ঘ’টনা বাস্তবে ঘ’টে।

মধ্য আমেরিকার হন্ডুরাসে ইয়োরো এলাকায় বছরে দুবার আকাশ থেকে ঝরে পড়ে শয়ে শয়ে মাছ। আরও অদ্ভুত বিষয় হলো এই ইয়োরো এলাকা সমুদ্র থেকে যোজন মাইল দূ’রে অবস্থিত। তবে এ ঘ’টনা এই এলাকায় মোটেই নতুন নয়। ১৮০০ সাল থেকে প্রত্যেক বছর মে থেকে জুন মাসের মধ্যে এমনটা হয়ে থাকে।

এই অদ্ভুত ঘ’টনা লুবিয়া দে পেসেস নামে পরিচিত। প্রত্যেক বছর মে থেকে জুন মাসের মধ্যে এখানে তীব্রগতিতে ঝড় ও বৃষ্টি হয়। ঝড়ের তীব্র গতিবেগের জন্যই রাস্তায় শয়ে শয়ে মাছ এসে আছড়ে পড়ে। রাস্তাজুড়ে ভরে যায় নানারকম মাছে। তবে এর পিছনে যথাযথ বৈজ্ঞানিক কারণ এখনো সেভাবে প্র’কাশ্যে আসেনি।

পৃথিবীর আরো বেশ কয়েকটি জায়গায় এই ধ’রনের বৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও মাছের স’ঙ্গে ব্যাঙও দেখা যায়।এমনকি কয়েকটি প্র’তিবেদনে দেখা গিয়েছে যে কিছু জায়গায় সাপ, ইঁদুর, মাকড়সা, জে’লিফিশ সহ নানান রকমের জীব ঝড়ো হাওয়ায় রাস্তায় আছড়ে পড়ে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই প্রা’ণীগু’লি মৃ’ত অবস্থায় এসে রাস্তায় পড়ে।

কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে জীবিত অবস্থায় সাপ বা বড় মাকড়সা জাতীয় প্রা’ণী এসে পড়লে আত’ঙ্ক তৈরি হয়। ইয়োরো এলাকার বাসিন্দারা যদিও আকাশের মেঘ দেখে আন্দাজ ক’রতে পারেন কখন শুরু হবে তুমুল ঝড় এবং মৎস্য বৃষ্টি। ঝড় এতই তীব্র গতিবেগে হয় যে অদ্ভুত এক শব্দ তৈরি হয়। মনে হয় যেন আকাশ থেকে সোজা মাটিতে আছড়ে পড়ছে মাছ।

এখানকার বাসিন্দারা অনেকে মনে ক’রেন যে এই ঘ’টনার পিছনে রয়েছে কোন ধ’র্মীয় কারণ।প্রচলিত রয়েছে ১৮৫৬ -১৮৬৪ সালে এখানে একজন ক্যাথলিক প্রিস্ট ছিলেন। মানুষ সেসময় অনাহারে ভুগছিল। তখন সেই প্রিস্ট ঈশ্বরের কাছে খাদ্যের জন্য প্রার্থনা ক’রেন। আর তার পরেই এই অদ্ভুত কা’ণ্ড ঘ’টে। প্রচন্ড ঝড় উঠে

এবং প্রায় আকাশ থেকে ঝরে পড়তে থাকে নানা রকমের মাছ। তারপর থেকেই প্রত্যেক বছর এই ঘ’টনার সা”ক্ষী থাকে এখানকার মানুষ। অনেকে আবার বলেন ২০০ কিলোমিটার দূ’রে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগর থেকে এই মাছগু’লি নাকি র’হস্যজ’নকভাবে উড়ে এসে এখানে পড়ে।