নরপ’শুটা আমাকে কোলে তুলে মোনাজাত করতো!

64

বাংলাদেশে প্রতি চার জন মেয়ে শি’শুর মধ্যে একজন যৌ’ন নিপীড়নের শি’কার হয়৷ আর প্রতি ছয় জন ছেলে শি’শুর মধ্যে যৌ’ন নিপীড়নের শি’কার হয় একজন৷ শুধু পুরুষ নয়, শি’শুরা কখনো কখনো নারীর হাতেও যৌ’ন হয়রানির শি’কার হয়৷

আর শতক’রা ৭৫ ভাগ যৌ’ন হয়রানির ঘ’টনাই ঘ’টে পরিবারের ঘনিষ্ঠজন, ব’ন্ধু বা আত্মীয়দের মাধ্যমে৷ শি’শুকালে এরকমই কিছু যৌ’ন নিপীড়নের ঘ’টনা তুলে ধ’রেছেন এক নারী চিকি’ৎসক। নিচে ঘ’টনাগুলো তুলে ধ’রা হলো- ঘ’টনা ১: বয়স তখন পাঁচ কি ছয় হবে। সে সময় প্রা’য় বাসায় আসতো দুইজন মামা।

তখন আম’রা সুইডেনে। আব্বা-আম্মা কাজে’র কারণে যখন বাইরে যেতো তখন আমাকে রেখে যেতো পাশের এক আন্টির বাসায়। আন্টির মেয়ের স’ঙ্গে আমি খেলতাম। হ’ঠাৎ একদিন ওই দুই মামা এলো আন্টির বাসায়। আন্টির কি এক জ’রুরি কারণে বাইরে যাবেন। তাই আমাদের দু’জনকে নি’রাপদ স্থান ভেবে ওই দুই নরপশুর কাছে রেখে যায় আন্টি।

দুইজন আমাদেরকে কোলে নিয়ে যখন আদর করছিলো…আমি ভ’য় পাচ্ছিলাম। একটা আত’ঙ্ক, ভ’য় আর অস্বস্তিতে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা। বুঝলাম এরা দৈত্য। এরপর তারা অনেকবার আমাদের বাসায় এসেছে। তাদেরকে দেখলেই দৌড় দিয়ে অন্য রুমে চলে যেতাম। আর চোখে পানি চলে আসতো তাদেরকে দেখলেই।

ভ’য়ে কখনোই বলতে পারিনি আব্বা-আম্মাকে। কিসের ভ’য় সেটা এখনো জানি না। তবে, এখনো তাদেরকে দেখলে আমি চিনে ফেলবো। ঘ’টনা ২: তখন আমি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। কোন জানি একটা ব্যাংকে চাকরি করতো এমন একজন শিক্ষক আমাকে বাসায় পড়াতে আসতো মাগরিবের আগে-আগে।

বাসায় এসে নামাজ পড়তো। নামাজে যাবার সময় আমাকে বলতো, মোনাজাতের সময় ডাকবো, এসো। গেলাম মোনাজাত ক’রতে, সে জায়নামাজে বসে আমাকে কোলে নিয়ে মোনাজাত করতো আর আমি বুঝতাম কোনো শক্ত একটা কিছু আমা’র শ’রীরে আঘা’ত করছে। শ’রীরের মধ্যে অস্বস্তি আর ভ’য় লাগতো।

ওই অবস্থাতেই সেই নরপশু মোনাজাত শেষ করতো। এরপর আমি আমাদের বাসার খালাকে ( যে বাসায় কাজ করতো) বললাম, খালা.. স্যার যখন আমাকে ডাকে মোনাজাতের জন্য, তখন আমি যেতে চাই না, আর না গেলেও আব্বাকে বলবে আমি মোনাজাত করি না, পরে আব্বা বকবে আমাকে। আপনি কি দরজার ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন? খালা মনে হয় ব্যাপারটা বুঝেছিলো।

তার দু’একদিনের মধ্যেই আমা’র সামনে গিয়ে তাকে গালা’গালি ক’রে বাসা থেকে বের ক’রে দেয়। অনেক শান্তি লে’গেছিল তখন। কিন্তু, বলতে পারিনি আব্বা-আম্মাকে।

ঘ’টনা ৩:
তখন আমি দশম শ্রেণির ছাত্রী। রা’য়ে’র বাজার স্কুলের একজন ইংরেজির শিক্ষক আমাকে বাসায় পড়াতে আসতো। পড়ানো রুমটা ছিলো বাসার সবচেয়ে কর্নারের। তার চোখ মুখের চাওনি ভালো লাগতো না। একদিন আব্বা-আম্মা একটা বিয়ের দাওয়াতে যাবে, যাবার সময় দেখা ক’রে গেল আমা’র স’ঙ্গে । আমি তখন ওই নরপশুর কাছে পড়ছিলাম। সেদিনই হ’ঠাৎ ওই নরপশুর আ’সল চেহারাটা দেখি। উঠে এসে প্রথমে বুকে হাত দেয়, তারপর জো’র’ ক’রে ঠোঁটে….।

শ’রীরের সমস্ত শ’ক্তি দিয়ে তাকে ধা’ক্কা দেই। আর জীবনের প্রথম প্রতিবা’দ করি, জো’র’ে গালে একটা চড় দেই। তারপর আমাকে পড়াতে আর কখনো আসেনি।

আম্মা আমাকে জিজ্ঞেস ক’রেছিল, কেন আসে না? আমি ভ’য়ে বলতে পারিনি। ভেবেছি, আম্মা যদি না বুঝে। আর আমাকে যদি খা’রাপ ভাবে। শুধু বলেছি, সে আর আসবে না… কারণ, সে বিদেশে চলে যাবে।

ঘ’টনা ৪:
গাউছিয়া-চাঁদনী চকের মাঝে খুব ভিড় হতো। তখন আমি ডেন্টালে পড়ি। মা’র্কে’টে গেছি আমা’র নানীর স’ঙ্গে । বার বার পেছন থেকে একটা হাত আমা’র বুকে আবার কখনো পে’টে। মনে মনে সিদ্ধা’ন্ত নিলাম, হাতটা ধ’রবো। ঠিকই হাতটা ধ’রলাম। শক্ত ক’রে ধ’রে নখ বসিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর ঘুরে তাকালাম। দেখলাম, সিটি কলেজে’র ব্যাচ পড়া এক ছাত্র। তখনো নখ ডাবিয়েই রেখেছিলাম হাতে। ততোক্ষণে লোকজনের ভিড়। সবাই হাত ছে’ড়ে দিতে বলল। তাকে শুধু একটা কথাই বলেছিলাম, এরপর থেকে কোনো মেয়ের শ’রীর ধ’রার আগে জিজ্ঞেস ক’রে নিবি, শুয়োরের বাচ্চা।

ঘ’টনা ৫:
তখন আমি এক বাচ্চার মা। পে’টের ব্যাথা নিয়ে যাই ডাক্তারের কাছে। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে সে আমা’র দুলাভাই হয়। বেটা তো ডাক্তার না, আ’সলে একটা…। stethoscope টা দিয়ে কোন কৌ’শলে Breast এ হাত দিতে হয় তা তার ভালোই জা’না, বুঝলাম। এখানেও নি’রাপদ না। আসার সময় তার মুখে থুথু মেরে এসেছিলাম। আর সেদিন সরাসরি যাই আব্বার কাছে। ঘ’টনাটা বলি। তারপর, একটা সময় সে মাফ চায়। কিন্তু, এদেরকে কখনো মাফ ক’রতে নেই। তাই, মরলেও মাফ করবো না।

হয়তো এমন ঘ’টনা অনেকের জীবনেই আছে। আম’রা শি’শুকালে বলতে পারি না, পরে নিজেকে নিজে তৈরি করি, হই প্রতিবা’দি। একটা সময় আব্বা-আম্মাকেও বলতে পারিনি। কারণ, প্রচন্ড ভ’য় পেতাম আর তাদেরকে ব’ন্ধু মনে ক’রতে পারিনি। আমা’রও মেয়ে আছে। আমি আমা’র মেয়ের স’ঙ্গে সব রকম গল্প করি। চাইনা ওর জীবনে এমন কিছু ঘটুক।

মেয়ে সন্তান একটু বড় হবার স’ঙ্গে স’ঙ্গে ই মা হিসাবে উচিৎ, এসব নরপশুদের স’স্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়া এবং নি’শ্চিত ক’রা, এটা তার (মেয়ের) দোষ না। আমাদের পৃথিবীতে এখনো এদের বসবাস আছে। তবে, এরা মুখোশ পড়া।

আজ এ ঘ’টনাগুলো লিখেছি সকলের নি’রাপত্তার জন্য। জানি না আমাকে কে কি ভাবছেন। হয়তো কেউ-কেউ আমাকে নির্লজ্জ বলবেন। তবে, একটা কথাই বলব, নি’রাপদ রাখু’ন আপনার শি’শুকে। আর নারী তুমি রুখে দাঁড়াও।

সূত্র-অনলাইন