“আমাকে মি’থ্যে বলে ও বাসায় নেয়, আমি জানতাম না বাসায় কেউ নেই”

157

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জা’নিয়েছেন নিজে’র স’মস্যার কথা। “আমি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছি। আমা’র বাবা একজন স’রকারি ক’র্মক’র্তা এবং মা একজন টিচার। আম’রা তিন বোনের মধ্যে আমি মেঝ।

ছোটবেলা থেকে আমা’র আব্বুর কাছে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এবং চাকরি জীবনের সাফল্যের গল্প শুনে আমি খুব অনুপ্রানিত হতাম। ১টি কথা বলে রাখি, আমি ছোটবেলা থেকে একটু শারিরীক ভাবে অ’সু’স্থ থাকায় আমাকে আমা’র বাবা-মা কখনও পড়াশুনার জন্য চা’প দেয়নি, এমনকি আমা’র কোন ব্যাপারেই তারা জো’র ক’রেনি।

ভু’লটাকে হাতে ধ’রে শুধ’রে দিয়েছেন। আমা’র অন্য ২ বোনের তুলনায় আমা’র উপর প্রত্যাশার চা’পটা কম থাকায় আমি মাঝে মাঝে মা’নসিকভাবে খা’রাপ বোধ করতাম। অনেকটা বলা যায় যে নিজেকে আমা’র লাস্ট বেঞ্চের স্টুডেন্ট মনে হত আর সেখান থেকেই পড়াশুনাতে অনেকটা জেদের বশত আমা’র আ’গ্রহটা বেড়ে যায় এবং SSC, HSC তে আমি ডাবল গোল্ডেনসহ উত্তীর্ণ হই।

এখানে আম্মুর অবদান স’বচেয়ে বেশি যিনি তার জব,সংসার সবকিছুর পরেও আমাকে প্রতিদিন আপডেটেড সুবিধার ব্যব’স্থাটা ক’রে দিয়েছেন। আমি মফস্বল শহরে বড় হয়েছি এবং বলে রাখি আমি গার্লস স্কুল গার্লস কলেজে পড়েছি।

আমা’র HSC, এমনকি ভর্তি কোচিং এ কোন ছে’লে ব’ন্ধু ছিলনা, এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম এক বছরেও আমা’র কোন বয় ফ্রেন্ড (প্রে’মিক) ছিলনা। এটা হয়নি আমা’র আম্মুর ভ’য়ে না, তার আদর্শে। কিন্তু, অনার্স ১ম বর্ষের ফাইনাল প’রী’ক্ষা শেষে হ’ঠাৎ ক’রে আমা’র ফোনে ১টা অ’পরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে।

প্রথমে আমি ছে’লেটির সাথে ভদ্রভাবে কথা শেষ ক’রে তাকে আর ফোন ক’রতে নি’ষেধ করি। কিন্তু সে আমাকে ফোন ক’রেই যায় এবং যেহেতু সে আমা’র সাথে খা’রাপ ব্যবহার করছিল না, তাই আমি রাফলি তাকে কিছু বলতেও পারিনি। আর তখন এ সময়ের মত স্মা’র্টফোন না থাকায় আমি আমা’র সাধারণ ফোনে তাকে ব্লকও ক’রতে পারিনি।

এরকম কয়েকদিন যেতে যেতে আমি তাকে বললাম যে আপনার পরিচয় এবং আমা’র ফোন নং কে দিয়েছে সেটা না বললে আমি ফোন নং চেঞ্জ করব (যদিও এটা সম্ভব ছিলনা কারণ আমা’র পরিবারকে এটা শেয়ার ক’রা সহ’জ ছিলনা)। তখন সে বলল যে আমা’র প্রমিস ক’রতে হবে যে আমি যেন সব জে’নে তার দোষ না হলে তার সাথে যোগাযোগ ব’ন্ধ না করি।

এবং আমি রাজি হয়ে জানতে চাইলে সে বলল যে আমা’র ক্লাসমেট (ব’ন্ধু) এর কাছে সে ভদ্র এবং ভাল ফ্যামিলির ১টা মেয়ের সাথে স’ম্পর্ক করিয়ে দিতে বলে এবং তার ফোনে আমা’র ছবি দেখে সে পরবর্তীতে আমা’র নম্বরটা চু’রি ক’রে নিয়ে আমাকে ফোন ক’রে। বলে রাখি এই ছে’লেটিও আমা’র ব্যাচ’মেট তবে অন্য ১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করছে।

এরপর তারসাথে আমা’র ১জন ব’ন্ধুর মত যোগাযোগ ছিল এবং আমা’র ক্লাসমেট ব’ন্ধুটির সাথে সব জা’নাজানি হলে সে ১দিন আমা’র ক্যাম্পাসে আসে এবং এর কিছুদিনের মা’থায় আমাকে প্রোপোজ করলে আমি না করি এবং যোগাযোগ ব’ন্ধ ক’রে দেই। হ’ঠাৎ ২/৩ দিন পর সে বসুন্ধ’রা সিটিতে যায় এবং বলে যে সে উপর থেকে ঝাঁপ দিবে এবং আমাকে ওখানে তার ছবি তুলে পাঠায় এবং আবারো প্রোপোজ ক’রে এবং বলে সে ওর বাবার ছোট ছে’লে এবং ওর বাবা আমাকে ছাড়বেনা ওর কিছু হলে।

বলে রাখি ওর বাবা সুপ্রিম কোর্টের একজন ব্যারিস্টার। আমি তখন অনেকটা ভ’য় এবং সহানুভূতি দিয়েই বোকার মত ওর প্রোপোজালে হ্যাঁ বলি। এরপর আমাদের স’ম্পর্কটা খুব ভাল যাচ্ছিল ৪/৫মাস এবং কিছুদিন পর বার্থডে। ওর বার্থডের দিন ও আমাকে নিয়ে অনেক ঘোরাঘুরি শেষে বলে যে ওর টাকা শেষ, বাসায় গিয়ে টাকা নিয়ে আসবে। আমাকে বলে যে তুমি রিক্সায় বাসার সামনে দাড়াবে। আম’রা ওর বাসার সামনে যাই এবং ও আমাকে বলে যে এভাবে বাসার সামনে দাঁড়ানোটা ভাল দেখায়না। তুমি উপরেই আস, কোন স’মস্যা নাই।

আমি ওকে খুব অন্ধবিশ্বা’সে ওর সাথে উঠে যাই কিন্তু আমি একবারের জন্যও জানতাম না ওর বাসায় সেদিন কেউ ছিলনা আর ও আমাকে সেটা বলেনি এবং জানতে চাইলে কথাটা এড়িয়ে গেছে যেটা আমি ঐ মু’হূর্তে ধ’রতে পারিনি। এবং এরপর ও আমা’র সাথে জো’র ক’রে শা’রীরিক স’ম্পর্ক ক’রতে চায় এবং আমি বা’ধা দাওয়ার এক পর্যায়ে ওকে আ’ঘাত করি কিন্তু আমি শেষ র’ক্ষা ক’রতে পারিনি। এরপর আমি স’ম্পর্ক ভে’ঙে দেই এবং গত ৩ টি বছর আমি শুধু একটা ভ’য় বয়ে বেড়াচ্ছি যে আমি লাইফে অন্য কাউকে নিয়ে সু’খী হতে পারব না কারণ আমি ভা’র্জিন নই।

ওর সাথে আমা’র স’ম্পর্ক নেই কিন্তু তারপরও আমি এখনও কিছুদিন পরপর যোগাযোগ করি। ও এখনও আমাকে ওর লাইফে ব্যাক ক’রতে রিকোয়েস্ট ক’রে এবং গত ৩ বছর ধ’রে করছে। কিন্তু ও আমা’র ব্যাচ’মেট। ওর হায়ার এডুকেশন নিয়ে অনেক দীর্ঘ পথ আর আমা’র পড়াশুনা শেষের পথে + জবেরও সুযোগ আ’সছে।

ফ্যামিলি থেকে বিয়ের জন্য বেশ কয়েকবার আমাকে বিয়ের ব্যাপারে জানতে চেয়েছে। অনেক যোগ্য এবং ভাল পাত্র হওয়ার পরও আমি পড়াশুনা শেষ ক’রা, জব ক’রা এসব অজুহাতে আব্বুর কাছে সময় চেয়ে নিয়েছি এবং নিচ্ছি। সর্বশেষ আমি একবছর সময় চেয়ে নিলাম জব প্রিপারেশনের জন্য কিন্তু আমি জানিনা কেন এবং কী’ এর উদ্দেশ্য।

মাঝে মাঝে ভাবি আমি অনেক ভাল কিছু করলে আমা’র এই খুঁতটা হয়ত ছাড় পাব কিন্তু সাথে সাথে এক ভ’য়ংকর অজা’না আশং’কায় আর কিছু ভাবতে পারিনা। আবার আমি শত চাইলেও এই ছে’লেটির জন্য বেশিদিন অ’পেক্ষা ক’রে থাকতে পারবনা। যে সু’খের জন্য আমা’র পরিবার পায়তারা করছে সেটা তো নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে এই ভ’য়ে আমি আর স্বা’ভাবিক থাকতে পারছি না।

পরিবার স্বপ্ন বুনতে গিয়েই স্বপ্নভা’ঙন দেখবে সেই মু’হূর্তগুলো ভাবতেই পারছিনা। আমি একা হলে কোন ভ’য়ই ছিলনা, কিন্তু আমা’র আব্বু-আম্মুকে এটার মু’খোমুখি ক’রার কথা ভাবা যায়না। আমি প্রতিনিয়ত নামাজ পড়ে সৃষ্টিক’র্তার কাছে ক্ষ’মা চাই, একটু সাহায্য চাই। কিন্তু বাস্তবে আমা’র জীবনে কী’ হবে তা ভেবে আমি দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি দিনদিন। কারো সাথে আজো শে’য়ার ক’রতে পারিনি।”