‘একা গেলে বাচ্চারা মা মা বলে হাহা’কার করবে তাই ওদের নিয়েই চলে গেলাম’

ঠাকুরগাঁওয়ে মা ও দুই সন্তানের ম’রদে’হ উ’দ্ধারের পর আরিফা বেগমের লেখা দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি উ’দ্ধার ক’রেছে পু’লিশ। চিঠিতে আরিফা বেগম তার আত্মহ’ত্যার কারণ লিখে রেখে গেছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাড়িতে মেয়ের পড়ার টেবিলে বই চা’পা দেওয়া চিঠিটি উ’দ্ধার ক’রা হয়। রানীশংকৈল থা’নার ভা’রপ্রা’প্ত ক’র্মকর্তা (ও’সি) জাহিদ ইকবাল জা’নান, আরিফার ঘরে তার মেয়ের বই-খাতা দিয়ে চা’পা দেওয়া অব’স্থায় একটি চিঠি খুঁজে পাওয়া গেছে। দুই পৃষ্ঠার চিঠিতে আরিফা বেগম লিখে গেছেন,

‘আহারে জীবন। সংসারের অভাব অশান্তি আর ভালো লাগে না। আমি একাই চলে যেতাম, কিন্তু একা গেলে আমা’র বাচ্চারা মা মা বলে হাহাকার করবে। এজন্য ওদের নিয়েই চলে যাওয়ার সিদ্ধা’ন্ত নিলাম। আমা’র মৃ’ত্যুর জন্য কেউ দা’য়ী না। আমি নিজেই আত্মহ’ত্যা করিলাম। এটা সত্যি একশ বার সত্যি একশ বার সত্যি একশ বার সত্যি।’

চিঠিতে আরিফা তার স্বা’মী আক’বরকে উদ্দেশ্য ক’রে লি’খেছেন- ‘স্বা’মী তোমা’র প্রতি আমা’র কোনো অ’ভিযো’গ নাই। আমা’র বিয়ের মোহরানা মাফ ক’রে দিলাম। তুমি ভালো থেকো।’ শ্ব’শুরবাড়ির লোকজনকে উদ্দেশ্য ক’রে আরিফা লি’খেছেন, ‘আপনাদের স’ঙ্গে অনেক খা’রাপ আচরণ করছি এর জন্য মাফ চাই।’

আরিফার স্বা’মী আক’বর আলী বলেন, অভাব-অনটনের সংসারে স্বা’মী-স্ত্রী'র ঝগড়া-বিবাদ হয়েই থাকে। মঙ্গলবার একটি ঋণ দান সংস্থা থেকে ১৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। সেটা নিয়ে আরিফার স’ঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। অভাবের কারণে আরিফা সব সময় বলত, ‘আমি তোমা’র বাসায় থাকব না।

যেখানে যাই, আমি ছেলে-মেয়েকে স’ঙ্গে ক’রেই নিয়ে যাব। কিন্তু ছেলে-মেয়ে নিয়ে এভাবে চলে যাবে বুঝতে পারিনি।’ রাণীশংকৈল থা’নার ও’সি এসএম জাহিদ ইকবাল বলেন, পু’লিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে অভাব-অনটন ও সংসারে অশান্তি ছিল আরিফার। এ কারণে দীর্ঘদিন ধ’রে হ’তাশা ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি।

তাই মেয়ে ও ছেলেকে বিষাক্ত কোনো কিছু খাইয়ে পরে তিনি আত্মহ’ত্যা ক’রে থাকতে পারেন। ম’য়নাতদ’ন্ত প্র’তিবেদন পেলে সবটা জা’না যাবে।ম’রদে’হ উ’দ্ধারের পর স্বা’মী আক’বর আলী, শ্ব’শুর সিরাজুল ইসলাম, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম ও দেবর বাবর আলীকে প্রাথমিক জি’জ্ঞা’সাবা’দের জন্য আ’টক ক’রেছিল পু’লিশ। পরে তাদের স্থা’নীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্য’ক্তিদের হেফাজতে ছে’ড়ে দেওয়া হয় বলে জা’নান ও’সি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রানীশংকৈল উপজে’লার ধ’র্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া শিয়ালডাঙ্গী গ্রামে বাড়ির সামনে পুকুর থেকে আক’বর আলীর স্ত্রী আরিফা বেগম (৩২), মেয়ে আখলিমা আখতার আঁখি (১০) ও ছেলে আরাফত হোসেনের (৪) ম’রদে’হ উ’দ্ধার ক’রে পু’লিশ। সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন।

error: Content is protected !!