প্রে’মের টানে কানাডার প্রাসাদ ছেড়ে টিনের ঘরে তরুণী!

9

যোগা শেখাতে গিয়ে প্রে’ম । তারপরই কালনার যুবকের বউ হতে সাত সমুদ্র ১৩ নদীর পেরিয়ে চলে এলেন কনে । ষষ্ঠীর দিন দুগ্গা দুগ্গা করে মালবদলও হয়ে গেল । এখন সুখেই ঘরকন্না করছেন কানাডিয়ান বউ ।

অ’ত্যাধুনিক সংস্কৃতি ছেড়ে গ্রাম বাংলার আদব কায়দায় মানিয়ে নিতে অ’সুবিধা হলেও চেষ্টা করে চলেছেন । সেই বিদেশিনী বউ দে’খতে কালনার আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা টিঙ্কু রায়ের বাড়িতে ভিড় উপচে পড়েছে । সকাল বিকেল শুধু লোকজনের লাইন রায়বাড়ির সামনে । প্রে’ম কাহিনিটা সেলুলয়েডের গল্পের মতোই ৷

ক্যাথরিনের বাবা সিলেস ওয়ালেট আর মা হেলেনি ফ্রেচেট, দু’জনই নার্সের চাকরি করেন ৷ বোন ভ্যালেরিকে নিয়ে বছরখানেক আগে ভা’রতে বেড়াতে এসেছিলেন ক্যাথরিন ৷ ঘুরতে ঘুরতে উত্তরাখণ্ডের হৃষিকেশের একটি যোগ প্রশিক্ষণ কে’ন্দ্রে যোগ দেন কানাডার তরুণী । সেখানে আলাপ ও প্রে’ম যোগ প্রশিক্ষক টিঙ্কুর স’ঙ্গে । সেই প্রে’ম আরও গাঢ় হয়, প’রিণতি বিয়েতে ।

রায়বাড়ির ছে’লে টিঙ্কু যোগা শেখান । দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই তাঁর যোগার ক্লাস চলে । প্রশিক্ষণও প্র’চারের জন্য বেনারসেও যান টিঙ্কু । গতবছরও গিয়েছিলেন । কাশিতে এক যোগার ক্লাসে আসেন কানাডিয়ান তরুণী ক্যাথরিন অলেটি । তিনি তখন ভা’রত ভ্রমণে এসেছিলেন । টিঙ্কুবাবুর যোগার ক্লাস তাঁর ভাল লে’গে যায় । এরপর কাশিতে থাকাকালীন প্রতিদিন সেই ক্লাসে আসতেন ।

এই সূত্র ধ’রেই তাঁদের দুজনের মধ্যে ব’ন্ধুত্ব গড়ে ওঠে । একটা সময় ওই যুবক কালনার বাড়িতে ফি’রে আসেন । ক্যাথরিন চলে যান কানাডায় । কিন্তু যোগাযোগ থেকেই যায় । সেই সূত্রেই ব’ন্ধুত্ব বদলে যায় প্রে’মে । বিয়ের সিদ্ধা’ন্ত নেন তাঁরা । তবে তার আগে ক্যাথরিনের অনুরো’ধে কানাডা যান টিঙ্কু রায় । তরুণীর বাবা-মায়ের স’ঙ্গে দেখাও করেন ।

বিয়ের কথা পাকা হয়ে যায় । এরপর গত ষষ্ঠীর দিন টিঙ্কুবাবুর বাড়িতেই চলে আসেন ওই তরুণী । এই স’ম্পর্কে সম্মতি দেন ক্যাথরিনের অ’ভিভাবকরা, যাঁরা আদতে ফরাসি বংশোদ্ভূত । পুরো বাঙালি রীতি মেনে ক্যাথরিন বাঁ’ধা প’ড়েন সাত পাকে ৷ সুদূ’র কানাডা থেকে মে’য়ে-জামাইকে আশীর্বাদ করেন ক্যাথরিনের মা-বাবা । শুভলগ্নে চার হাত এক হয়ে যায় ।

টিঙ্কু-ঘরণী এখন শাঁখা-সিঁদুর, শাড়ি পরছেন । রুটি বেলছেন । চা করছেন । বাংলা বলছেন— ‘খাব’, ‘ভাত’, ‘ধন্যবাদ’ । আর টিঙ্কুর পরিবার বলছে, ‘‘মে’য়ের খুব সাহস ।’’ ক্যাথরিন তাঁদের কাছে ঘরের মে’য়ে হয়ে গিয়েছেন । নতুন বউ ইতিমধ্যেই বাংলা শিখতে শুরু ক’রেছেন । পেশায় স্কুল শিক্ষিকা ক্যাথরিন গ্রাম বাংলার প্রে’মে পড়েছেন । গ্রামের মানুষের সরলতা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে ।

কিন্তু ভাষা না জা’নায় কথা বলতে পারছেন না । সেই অভাব দূ’র ক’রতেই শুরু হয়েছে নয়া প্রশিক্ষণ । তাঁর কথায়, বিয়ে করে ভালই আছেন নবদম্পতি । এদিকে গ্রামে বিদেশিনী বউ পেয়ে খুশি প্রতিবেশী অরণ মল্লিক । তিনি জা’নান, মে’য়েটি খুব ভাল । এখানে নতুন বউমা’র পরিবারের কেউ না থাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনিই কন্যা সম্প্রদান ক’রেছেন ।

এই ধ’রনের ঘ’টনা গ্রাম বাংলায় তো খুব একটা দেখা যায় না । তবে প্রে’মের টান বড় গ’ভীর । তাই তারা সুখেই থাকবে, তাঁর আশা । এই ক’দিনেই আপন হয়ে ওঠা বৌমা’র সর্বক্ষণ খেয়াল রাখছেন শাশুড়ি দীপ্তি রায় ৷ বললেন, ‘ছে’লে আর বৌমা দু’জনেই নিরামিষ খান ৷ তাই ওঁদের জন্য থালা-বাসন সব আ’লাদা রেখেছি ।’ পূর্বস্থলী কলেজে’র প্রথম বর্ষের ছা’ত্রী, স’ম্পর্কে ক্যাথরিনের ননদ মনিকা কী’র্তনিয়ার পছন্দ হয়েছে বৌদিকে ।

বলেন, ‘বৌদি খুব খোলা মনের ৷ মুখে সব সময় হাসি লে’গে রয়েছে ৷ এই ক’দিনেই সকলের আপন হয়ে উঠেছে ৷’ এ বার পুজোয় টিঙ্কুদের পাড়ায় আক’র্ষণের কে’ন্দ্রে ছিলেন ক্যাথরিন । টিঙ্কুদের বাড়ির পাশেই পুজো হয় । সবার কৌতূহল বাঙালি বাড়ির মেম বৌকে ঘিরে । ক্যাথরিনও জা’নালেন, পুজো খুব উপভো’গ ক’রেছেন ৷