নির্জ’ন স্থানে আপ’ত্তিকর অবস্থায় প্রেমিক-প্রেমিকা আ’টক

13

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজে’লার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে পাহাড়ের নির্জন স্থানে আপ’ত্তিকর অব’স্থায় তরুণ-তরুণীকে আ’টক করে পু’লিশের হাতে তুলে দেয় স্থা’নীয় লোকজন। এ ঘ’টনায় প্রেমিক কামাল মিয়াকে (২২) গ্রেফতার করেছে পু’লিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘ’টনা ঘ’টে। কুলাউড়া থা’না পু’লিশের ওসি ইয়ারদৌস হাসান এই ঘ’টনার সত্যতা নি’শ্চিত ক’রেছেন। কামাল মিয়া উপজে’লার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আমুলী গ্রামের সিকান্দার আলীর ছেলে। বুধবার এ ঘ’টনায় বাদী হয়ে কুলাউড়া থা’নায় একটি মা’মলা ক’রেছেন ধ’র্ষণের শি’কার তরুণী।

মা’মলার অ’ভিযোগ ও স্থা’নীয় সূত্রে জা’না যায়, প্রেমের স’স্পর্কের সূত্র ধ’রে মঙ্গলবার (২১ মে) বিকেলে উপজে’লার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের গনকিয়া এলাকার একটি পাহাড়ে ওই তরুণীকে নিয়ে যায় প্রেমিক কামাল। সেখানে ওই তরুণীকে ধ’র্ষণ করে কামাল। স্থা’নীয় লোকজন বিষয়টি দে’খতে পেয়ে ঘ’টনাস্থল থেকে তাদেরকে আ’টক করে পু’লিশে খবর দেয়।

সন্ধ্যার পর কুলাউড়া থা’না পু’লিশের এসআই বাদল তাদেরকে আ’টক করে থা’নায় নিয়ে যান। কামালকে জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণীকে ধ’র্ষণের কথা স্বী’কার করেছে। পরে ওই তরুণী বাদী হয়ে কুলাউড়া থা’নায় মা’মলা করেন।— আরোও পড়ুনঃ ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরা, রক্ষা পেতে করণীয়—-
চিকিৎ’সাশাস্ত্রের ভাষায় এই স’মস্যাকে বলা হয় স্লিপ প্যারালাইসিস, বা ঘুমের মধ্যে পক্ষাঘাত।

স্লিপ প্যারালাইসিস হলে একজন ব্য’ক্তি কিছু সময়ের জন্য কথা বলা বা নাড়াচাড়া করার শ’ক্তি হারিয়ে ফে’লে ন। এটি সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে ওই সময়টায় রো’গী ভীষণ ঘাবড়ে যান, ভয় পেয়ে যান। সম্মিলি'ত সামরিক হাসপাতালের স্নায়ুরো’গ বিশেষজ্ঞ ডা. সামান্থা আফরিনের মতে, বোবায় ধ’রা বা স্লিপ প্যারালাইসিস হল গ’ভীর ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি স্নায়ুজনিত স’মস্যা।

ঘুমের ওই পর্যায়টিকে বলা হয় র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট-রেম। রেম হল ঘুমের এমন একটি পর্যায় যখন মস্তিষ্ক খুব সক্রিয় থাকে এবং এই পর্যায়ে মানুষ স্বপ্ন দেখে থাকে। কিন্তু সে সময় শ’রীরের আর কোন পেশী কোন কাজ করেনা। এ কারণে এসময় মস্তিষ্ক সচল থাকলেও শ’রীরকে অসাড় মনে হয়।

বোবায় ধ’রা কাদের হয়, কেন হয়?

স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই। এই প’রিস্থিতি যে কারও স’ঙ্গে যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে ব্রিটেনের জাতীয় স্বা’স্থ্যসেবা সংস্থা বা এনএইএস-এর তথ্য মতে তরুণ-তরুণী এবং কিশোর বয়সীরা স’বচেয়ে বেশি আক্রা’ন্ত হয়ে থাকেন। স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার পেছনে কিছু কারণকে চি’হ্নিত করা হয়েছে।

১. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা ছেড়ে ছেড়ে ঘুম হওয়া। অসময়ে ঘুমানো। অনেক সময় কাজে’র সময় নির্দিষ্ট না হলে, অথবা দূ’রে কোথাও ভ্রমণে গেলে এমন ঘুমের স’মস্যা হতে পারে।

২. মা’দকাসক্ত হলে অথবা নিয়মিত ধূমপান ও মদপান করলে। ৩. পরিবারে কারও স্লিপ প্যারালাইসিস হয়ে থাকলে। ৪. সোশ্যাল অ্যাঙ্কজাইটি বা প্যানিক ডিসঅর্ডার বা বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মা’নসিক স’মস্যা থাকলে।

বোবায় ধ’রার লক্ষণ: ডা. সামান্থা আফরিনের মতে এবং ব্রিটেনের জাতীয় স্বা’স্থ্যসেবার ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী স্লিপ পারালাইসিসের সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে। সেগুলো হল: ১. বড় করে নিশ্বা’স নিতে অনেক কষ্ট হয়। মনে হবে যেন বুকের মধ্যে কিছু চা’প দিয়ে আছে। দম বেরোচ্ছেনা।

২. অনেকের চোখ খুলতে এমনকি চোখ নাড়াচাড়া ক’রতেও স’মস্যা হয়। ৩. অনেকের মনে হয় যে কোন ব্য’ক্তি বা বস্তু তাদের আশেপাশে আছে, যারা তার বড় ধ’রণের ক্ষ’তি ক’রতে চায়। ৪. ভীষণ ভয় হয়। শ’রীর ঘেমে যায়। ৫. হৃৎস্পন্দন ও শ্বা’স প্রশ্বা’সের গতি বেড়ে যায়। অনেকের র’ক্তচা’পও বাড়তে পারে।

৬. পুরো বিষয়টা কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্র’ভাবটি কে’টে গেলে আগের মতো কথা বলা বা নড়াচড়া করায় কোন স’মস্যা থাকেনা। তারপরও অনেকে অস্থির বোধ করেন এবং পুনরায় ঘুমাতে যেতে উদ্বি’গ্ন হয়ে পড়েন।

চিকিৎ’সা কী:

স্লিপ প্যারালাইসিস আ’সলে গু’রুতর কোনও রো’গ নয়। মাঝে মাঝে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। মনকে চা’পমু’ক্ত রাখার পাশাপাশি ঘুমানোর অভ্যাসে ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই এই স’মস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা সাধারণ কিছু প’রামর্শ দিয়েছেন:

১. রাতে অ’ন্তত ৬ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা। এবং সেই ঘুম যেন গ’ভীর হয়।

২. প্রতিদিন রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠার অভ্যাস করা। এমনকি ছুটির দিনগুলোতেও।

৩. ঘুমের জন্য শোবার ঘরটিতে আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা ক’রতে হবে। যেন সেই ঘরে কোলাহল না থাকে, ঘরটি অন্ধকার থাকে এবং তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় থাকে, খুব বেশি না আবার কমও না। সম্ভব হলে ঘরে ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধি ছিটিয়ে দেয়া যেতে পারে।

৪. ঘুমাতে যাওয়ার আগ মু’হূর্তে ভারী খাবার সেইস’ঙ্গে ধূমপান, মদ পান এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা-কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫. ঘুমাতে যাওয়ার অ’ন্তত চার ঘণ্টা আগে ব্যায়াম করার চেষ্টা করা।

৬. ঘুমের সময় হাতের কাছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ অর্থাৎ ঘুমের বাঁ’ধা হতে পারে এমন কোন বস্তু রাখা যাবেনা।

৭. দিনের বেলা দীর্ঘসময় ঘুম থেকে বিরত থাকতে হবে।

৮. স্লিপ প্যারালাইসিস হলে নিজে’র মনকে প্রবোধ দিতে হবে যে ভয়ের কিছু নেই, এই প’রিস্থিতি সাময়িক, কিছুক্ষণ পর এমনই সব ঠিক হয়ে যাবে। এই সময়ে শ’রীর নাড়াচাড়া করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কখন চিকি’ৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:
এসব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি কারও বাড়াবাড়ি রকমের স্লিপ প্যারালাইসিস হয় অর্থাৎ আপনার ঘুমে নিয়মিতভাবে ব্যাঘাত ঘ’টে তাহলে চিকি’ৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কেননা স্লিপ প্যারালাইসিস ঘন ঘন হলে উদ্বি’গ্নতার কারণে র’ক্তচা’প অস্বা’ভাবিকভাবে বেড়ে বা কমে যায়, যা বড় ধ’রণের স্বা’স্থ্য-ঝুঁ’কির সৃষ্টি ক’রতে পারে। চিকি’ৎসক রো’গীর সার্বিক স্বা’স্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় প’রামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় তারা কম থেকে বেশি মাত্রার অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন।

চিকিৎ’সা পদ্ধতি:
নিউরোলজিস্ট বা স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা মূলত ব্যাপারে প’রামর্শ দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে তারা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাম-ইএমজি পরীক্ষা করে থাকেন। এখানে মূলত মাংসপেশির ইলেকট্রিকাল অ্যাকটিভিটির মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। যেটা কিনা স্লিপ প্যারালাইসিসের সময় অনেক কমে যায়। রাতে ঘুম না হওয়ার কারণে স্লিপ প্যারালাইসিসে আক্রা’ন্তদের অনেকেরই দিনের বেলায় ঘুম ঘুম ভাব হয়।

সেসময় চিকি’ৎসকরা রো’গীর এই দিনের বেলার ঘুম পরীক্ষা করে থাকেন। যাকে বলা হয় ডে-টাইম ন্যাপ স্টাডি এবং এর পরীক্ষাটিকে বলা হয় মাল্টিপল স্লিপ ল্যাটেন্সি টেস্ট। স্লিপ প্যারালাইসিসের সময় মস্তিষ্ক জেগে উঠলেও শ’রীর তখনও শিথিল থাকে। এর কারণ হিসেবে কানাডার দুই গবেষক জানিয়েছেন যে মস্তিষ্কে দুই ধ’রণের রাসায়নিক বা অ্যামাইনো অ্যাসিডের নি:সরণের কারণে মাংসপেশি অসাড় হয়ে পড়ে।

রাসায়নিক দুটি হল, গ্লাইসিন এবং গামা অ্যামাইনোবিউটিরিক অ্যাসিড-গ্যাবা। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী প্যাট্রিসিয়া এল ব্রুকস এবং জন এইচ পিভার, পিএইচডি একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে নিউরোট্রান্সমিটার গ্যাবা এবং গ্লাইসিন মস্তিষ্কে পেশী সক্রিয় রাখার কোষগুলোকে ‘সুইচ অফ’ করে দেয়।