সমালোচনার পর সন্তান স্বামী সংসার নিয়ে যেমন আছেন ফারহানা

194

গায়ে হলুদের দিন শহরময় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়েছিলেন ফারহানা আফরোজ। যার বিয়ে হয়েছিল আরও তিন বছর আগে। রয়েছে দেড়মাস বয়সী একটি ছেলে স’ন্তানও।

তার মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে দেশব্যপী আলোচনা স’মালোচনার ঝ’ড় বয়ে যায়। পজেটিভের চাইতে বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবেই নেয় সবাই। এতো কিছুর পর এখন সন্তান ও সংসার নিয়ে কেমন আছেন ফারহানা আফরোজ। জা’নাগেছে, বিয়ের অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ ক’রতে না পারায় ছেলে জ’ন্মের পর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আর সে অনুষ্ঠানকে ঘিরেই শখ পূরণ করেন লেডি বাইকার ফারহানা।

তবে তার এ কাজকে ভালোভাবেই দেখছেন কাছের ব’ন্ধু ও প্রতিবেশীরা। তাদের দা’বি ফারহানা স্বাধী’নচেতা মানুষ। কিন্তু নেটিজেনরা তার ব্য’ক্তি স্বাধী’নতায় হস্তক্ষেপ করছেন। ফারহানার বান্ধবী নওরীন মোক্তাকি জয়া বলেন, যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ফারহানার স’ঙ্গে আমা’র ব’ন্ধুত্ব। এরপর যশোর আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজেও এক স’ঙ্গে প’ড়েছি।

উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার জন্য দু’জন দুই শহরের বাসি’ন্দা হলেও যোগাযোগ এবং ব’ন্ধুত্ব ছিল অটুট। ফারহানা খুব ভালো মনের মানুষ, মিশুক। সবার উপকার করে। যেহেতু ও (ফারহানা) মোটরসাইকেল চালাতে পারে, তাই শখ ছিল নিজে’র বিয়েতে বাইক রাইডিং করার। ও শো-আপ চায়নি। নেটিজেনরা বা’নোয়াট কথা বলে ওকে নিয়ে বি’রূপ মন্তব্য করছেন।

জয়া আরও বলেন, ফারহানার তো তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছে। ও এখন এক বাচ্চার মা। গত ৩০ জুন ওর ছেলে সন্তান হয়েছে। ফারহানা ওর বিয়ের সময় অনুষ্ঠান ক’রতে পারেনি। ধু’মধা’ম করে বিয়ের অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা ছিল। তবে এতদিন পর সেই শখ পূরণ ক’রতে বিয়ের অনুষ্ঠান করছে, তাতে অন্যদের স’মস্যাটা কী? জয়া বলেন, দেশের মানুষ রাইড শেয়ারে মেয়ে চালকদের স’ঙ্গে বসতে পারে।

অথচ ফারহানকে রাইডিংকে সহ্য ক’রতে পারছে না। এটা সং’কীর্ণতা। ফারহানার ব’ন্ধু প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফার তরু খান বলেন, ফারহানা আমা’র কলেজ পর্যায়ের ব’ন্ধু। সে সময় ও আমাদের স’ঙ্গে মোটরসাইকেল চালাতো। ও একজন ভালো ব’ন্ধু, ওর স’ঙ্গে সবকিছু শেয়ার করা যায়। ফারহানার স্বাধী’নচেতা মেয়ে।

তার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আম’রা ব’ন্ধুরা ১৫/২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে শহর ঘুরেছি।  এতে দো’ষ কোথায়? লোকজন নেগিটিভ মন্তব্য করছে, তাতে খা’রাপ লাগছে। আমাদের প্রত্যাশা, প্রত্যেকে বিষয়টি স্বা’ভাবিকভাবে নেবে। ফারহানার প্রতিবেশী তমাল আহমেদ বলেন, ফারহানার মতো মেয়েই হয় না। ও খুব ভালো মেয়ে। তার বিয়ে হয়েছে অনেক আগে।

পারিবারিকভাবে মেনে নেওয়া নিয়ে জ’টিলতা ছিল। বিয়ে মেনে নেওয়ার পর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নেটিজেনরা যা করছেন তা ঠিক না। তমাল বলেন, যশোরে মেয়ে তানিয়া পাইলট হিসেবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, বি’রো’ধী দলীয় নেত্রী, স্পিকার নারী। নারীরা অনেক বিষয়ে এখন অগ্রগামী। ফারহানার ব্যাপারে এতো কনজারভেটিভ কেন বুঝি না।

এটা ফারহানার ব্য’ক্তি স্বাধী’নতায় হস্তক্ষেপ করার শামিল। তমাল আরও বলেন, ফারহানার পরিবারটি অনেক আগে থেকেই সং’স্কৃতি মনা ও প্রগতিশীল। বাংলাদেশের অভিনয় জগতের তিন নক্ষ’ত্র সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। এরা স’স্পর্কে ফারহানার চাচাতো ফুফু। ফলে সে স্বাধীনচেতা হিসেবে বড় হয়েছে।এর আগে, গায়ে হলুদের দিনে শহরজুড়ে ব’ন্ধু-বান্ধব ও সাথীদের নিয়ে বাইক র‌্যালি (মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা) করেন কনে ফারহানা।

ওই শোভাযাত্রার ছবি এ কাজে নিযু’ক্ত ফটোগ্রাফার তার অ’নুমতি নিয়েই ফেসবুকে দেন। এরপর ব্য’তিক্রমী এ আয়োজনের ছবি ভাইরাল হয়। ফারহানা আফরোজ বলেন, সবাই নেচে-গেয়ে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান উদযাপন করেছি। আমি যেহেতু মোটরসাইকেল চালাতে পারি, তাই চালিয়ে অনুষ্ঠান করেছি। ব্য’তিক্রমী কিছু করার ভাবনা থেকেই এমন আয়োজন।

এটি আমা’র নিজস্ব উদ্যো’গে করেছি। অনেক আনন্দ করেছি ব’ন্ধু-বান্ধব ও সাথীরা। যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে এসএসসি ও ২০১৩ সালে যশোর আব্দুর রাজ্জাক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ফারহানা। এখন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) থেকে এইচআর-এ এমবিএ করছেন ফারহানা।

তিনি আরও বলেন, ২০০৭ সাল থেকে বাইক চালাই। মূলত বাড়িতে সাইকেল ও প্রাইভেটকার চালানো শেখা হয় ছোট বেলাতেই। বাবার মোটরসাইকেলটিও চালানোর একটা ঝোঁ’ক ছিল। তাই বাবার অ’জান্তেই কোনো প্রশিক্ষক ছাড়াই মোটরসাইকেল চালানো শিখি।

২০১৩ সালে ঢাকায় আসার পর ব’ন্ধুদের মোটরসাইকেলে হাত পাকাই। এরপর নিজে স্কুটি কিনি। ওই স্কুটিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করি। ফারহানা আরও বলেন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার ছবি ফেসবুকে আসার পর শ্বশুড়বাড়ির লোকজন তা স্বা’ভাবিকভাবেই নিয়েছেন।

তারা আমা’র মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। ফলে তারা ছবি ও ভিডিও দেখে বেশ আনন্দ ক’রেছেন। কিন্তু নেটিজানরা বিষয়টিকে ভালোভাবে নিতে পারছেন না। তারা আমা’র চারিত্রিক সনদ দিচ্ছেন। এটা আমি মানতে পারছি না।

যে কারণে ছবি ভাইরাল হবার পর আমি নিজেই বাইক র‌্যালির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করি। তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলে আমি হেলিকপ্টার চালানোও শিখতাম। আমি সবকিছুই চালানো শিখতাম। স্বামীর পক্ষ থেকেও কোনো ধ’রনের আ’পত্তি নেই।

ফারহানা আফরোজ জা’নান, গায়ে হলুদের ছবি ভাইরাল হওয়া এবং নানা বিরূপ মন্তব্য তার জীবনে কোন প্র’ভাব পড়ছে না। তিনি বলেন, বাইক র‍্যালির ছবি ফেসবুকে আসার পর শ্বশুড়বাড়ির লোকজন তা স্বা’ভাবিকভাবেই নিয়েছেন। তারা আমা’র বাইক চালানোর বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন।

ফলে তারা ছবি ও ভিডিও দেখে বেশ আনন্দ করেছে। আমা’র শ্বশুড় আমাকে খুব দ্রুত একটি বাইক কিনে দেবেন বলে জা’নিয়েছেন। তবে তার স্বামী হাসনাইন রাফির স’ঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ফারহানা তাকে সংবাদমাধ্যমে না টানার জন্য অ’নুরো’ধ করেন। তার স্বামী বর্তমানে গাজীপুরে ক’র্মরত। ফারহানাও শিগগিরই ঢাকা যাবেন এবং শ্বশুরের প্রতিশ্রুত মোটরসাইকেলটি ঢাকা থেকেই কিনবেন।