বিয়েতে পুত্রবধুর বাইক চালানো নিয়ে যা বললেন বাইকার ফারহানার শ্বশুর

5

গায়ে হলুদের সাজে এক কনে মোটরবাইক চালাচ্ছেন। তার পেছনে একই রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত একদল যুবক। শহরের রাস্তায় মোটর শোভাযাত্রা। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় হয়েছে। আর তিনি হলেন যশোর শহরের সার্কিট হাউস এলাকার বাসিন্দা ফারহানা আফরোজ।

ফারহানা যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে এসএসসি ও ২০১৩ সালে যশোর আব্দুর রাজ্জাক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এখন তিনি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি থেকে এইচআর’এ এমবিএ করছেন। গত ১৩ আগস্ট গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ঘিরে এমন আয়োজন করেন ফারহানা। ফারহানা জা’নান, সবাই নেচেগেয়ে উদযাপন করেছি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান।

আমি যেহেতু বাইক চালাতে পারি তাই বাইক চালিয়ে অনুষ্ঠান করেছি। ব্য’তিক্রমী কিছু করার ভাবনা থেকেই এমন আয়োজন। এটি আমা’র নিজস্ব উদ্যো’গে করেছি। ঘ’টনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্র’কাশ হলে, সমলোচনায় ভরে ওঠে ফেসবুক জুড়ে। যদিও কেউ কেউ বিষয়টি পজিটিভলিই নিয়েছেন। এদিকে, স’মালোচনায় বিব্রত সেই বাইকার কনে।

স’ম্প্রতি ভ’য়েস অব রাইটস গ্রুপে একটি পোষ্টের মাধ্যমে ক্ষোভ প্র’কাশ ক’রেছেন তিনি। ভিউয়ার বিডির পাঠকদের জন্য পোষ্টটি হুবহু তুলে ধ’রা হলো, “নতুন কিছু দেখলে সবাই হুমড়ে পড়বে। ভাল খা’রাপ সব ই বলবে৷ আমি ফারহানা আফরোজ বর্তমান ফেসবুকে খুব ভাইরাল হচ্ছে আমাকে নিয়ে। কিন্তু আমি কি বলেছি আমাকে ভাইরাল কর। আমি নিজে বাইক চালাই।

ঢাকাতে থাকি, অহ রহ ছেলেরা হলুদে বাইক নিয়ে এন্ট্রি দিচ্ছে। ও মেয়ে রা নেচে৷ আমি মেয়ে হয়ে বাইক চালাতে পারি। তাই ভাবলাম বাইক চালিয়ে ই এন্ট্রি দি। এখন করো’না কালিন সময়ে বিয়ের প্রো’গ্রাম ক’রতে থা’না থেকে অনুমতি প্রয়োজন হয়। আমা’র ক্ষেত্রে ও তার ভিন্ন ছিল না। সকল অনুমতি নিয়ে ই আমা’র হলুদ ও বিয়ের প্রো’গ্রাম। সব ই ঠিক থাকত। মেকাপ, ড্রেস, সাজ।

এত কথা ও হত না যদি বাইক নিয়ে পার্লার থেকে প্রো’গ্রাম না যেতাম। কথা হল। ভাল খা’রাপ সব হল। আমা’র ছবি আমা’র থেকে অনুমতি না নিয়ে গ্রুপে গ্রুপে বাজে পোস্ট। একজন বিশিষ্ট ব্যেক্তি টিপু ভাই sk media নিউজ করল কেন? আজ মেয়ে হয়ে বাইক চালিয়ে এন্ট্রি তাই? কত মেয়ে বাইকার আজ বাংলাদেশ৷

তাহলে আমি যদি হলুদে তে বাইক চালিয়ে ঢুকি, কিছু মানুষের এত স’মস্যা যে গ্রুপে বাজে পোস্ট তো বটে ই। কিন্তু ইউটিউব এ ট্রোল। এগুলো কি মেনে নেওয়া যায়? উনি খুব বড় ইউটিউবার। তার থেকে অ’ন্তত এটা আশা রাখি না। আমা’র সাথে এটা হয়েছে আমি চাই না এরাকম হেরাসমেন্ট আর কোন মেয়ে বা লেডি বাইকারের সাথে হোক। এমনিতে ই সমাজে আমা’রা যারা বাইক চালাই তাদের অনেকের কথার সাথে লড়াই ক’রতে হয়।

ধিরে ধিরে এগুলো কমবে তা না বেড়ে ই চলেছে? আর কতদিন দেখব আমাদের সাথে এই অ’ত্যাচার জানি না। যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী মেয়ে, স্পিকার মেয়ে, দেশ মেয়েরা চালাই সেখানে একটা মেয়ে যে বাইক জানে তার বাইক চালনো কেন সমাজ ভাল ভাবে নিচ্ছে না? নিচ্ছে না মানলাম কিন্তু তার চরিত্র নিয়ে কথা আজে বাজে।

এগুলো কিভাবে সহ্য হয়? আমা’র ও পরিবার আছে। বর আছে শশুরবাড়ি আছে৷ আমা’র বর শশুরবাড়ি না হয় আমা’র পক্ষে আছে। আমা’র কোন স’মস্যা নাই। কিন্তু স’মস্যা না থাকলে ই কি এভাবে একটা মেয়ের চরিত্র নিয়ে কথা বলতে হবে? শুধু বাইক চালানো ছবি দেখে সবাই আমা’র চরিত্র সনদ দিয়ে দিল? এগু’লির বিচার কি হবে?”