রাতের ঢাকায় যু’বকদের ভা’ড়া করছেন উচ্চবিত্ত না’রীরা!

52

ঢাকায় যুবকদের কত টাকায় ভাড়া করছেন উচ্চবিত্ত নারীরাঢাকায় যুবকদের- অনেক নারী শুধু শরী’র ম্যাসেইজ করার জন্য ঢাকায় যুবকদের ভাড়া করছেন উচ্চবিত্ত নারীরা এসব কাজে ঘণ্টা হিসেবে টাকা নেন মেইল ইস্কর্টরা।

ঢাকা এসকর্ট সার্ভিস এ যোগ দিচ্ছেন অনেক সুঠাম তরুন। ঢাকায় ছে’লে ভাড়া করার জন্য রয়েছে আলদা ফেসবুক পেজ। যেখানে আপনি পছন্দের ছে’লে খুজে পাবেন সময়মত আপনার স্থান চাহিদা অনুযায়ী। গাড়ির গ্লাস নামিয়ে হ্যালো স্মা’র্টবয় বলেই যুবককে ডাকলেন এক মধ্য বয়সী নারী। মৃদু হেসে যুবক এগিয়ে যান।

তারপর আস্তে আস্তে কথা হয় তাদের। যুবক গাড়িতে উঠেতেই গাড়িটি বনানীর দিকে যায়।মুহূর্তের মধ্যেই গুলশান-২ এর মোড়ে ঘটে ঘটনাটি। একটি জিমনেশিয়াম থেকে বের হয়ে গুলশানের ওই মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন যুবক। তার পরনে কালো প্যান্ট, কালো গেঞ্জি, কাঁধে ছোট একটি ব্যাগ। তার শরী’র থেকে ভেসে আসছিল পারফিউমের ঘ্রাণ।

বারকয়েক কথা বলেছেন মোবাইলফোনে। সময় তখন রাত ৮টা প্রায়। দেখেই মনে হয়েছিল নির্ধারিত কারো জন্য অ’পেক্ষা করছিলেন তিনি। অল্প সময়েই মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া গেলো নির্ধারিত সেই জন হচ্ছেন ওই মধ্য বয়সী নারী। ওই যুবককে অনুসরণ করে জা’না গেছে চাঞ্চ’ল্যকর তথ্য।সুঠাম’দেহী এই যুবক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

পাশাপাশি তিনি একজন যৌ* নকর্মী। যদিও এ জগতে Male Escort Dhaka, Escort Boy Dhaka বা Rent Boy Dhaka হিসেবে পরিচিত তিনি। ঢাকায় এরকম কয়েক শ’ Male Escort রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন রিদওয়ান সামি। এটা তার প্রকৃত নাম না হলেও এই নামেই এ জগতে পরিচিতি তার।পরিচয় গো’পন করে কথা বললেও সরাসরি দেখা করতে চাননি তিনি। তার সঙ্গে কথা বলে জা’না গেছে, শুরুটা আজ থেকে দু’বছর আগে।

তখন তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। লেখাপড়ার পাশপাশি ফরেনারদের গাইড হিসেবে কাজ করতেন। ধারণাটি আসে আ’মেরিকান এক নারীর মাধ্যমে। পথশি’শুদের নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি করতে ঢাকায় এসেছিলেন ওই নারী।

গুলশানের একটি হোটেলে ছিলেন। ওই নারীর গাইড হিসেবে কাজ করার দ্বিতীয় দিনই তাকে বিছা’নায় সঙ্গ দিতে প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে তাকে পে করা হবে। তখন আ’মেরিকান ওই নারীর প্রস্তাবে রাজি হয়ে বেশ কিছু বাড়তি টাকা আয় করেছিলেন রিদওয়ান। ওই নারী তাকে পরাম’র্শ দেন মেল এসকর্ট হিসেবে কাজ করলে ভালো আর্ন করবেন তিনি।

তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন রিদওয়ান। এ প্রসঙ্গে রিদওয়ান বলেন, শুরুতে ভেবেছি এদেশে এটা মানুষ সহ’জে গ্রহণ করবে না। তবে এদেশে বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। একটা শ্রেণি রয়েছে যাদের লাইফস্টাইল ফরেনারদের মতোই। তারা অন্তত সাদরে গ্রহণ করবে। আর্নও হবে। তবে ওই শ্রেণির কাছে তা প্রচার করতে হবে।

এই ভাবনা থেকেই তৈরি করেন একটি ওয়েব সাইট। পরবর্তীকালে একটি ফরম পুরন করে তিনি ঐ ওয়েবসাইট এর সদস্য হন। এরপর থেকে বিভিন্ন ধনী নারীরা যাদের স্বামী বিদেশ কিংবা সদ্য বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে তারা তাকে ফোন দিতে থাকে। সেখানে অনেক ঢাকার মেল এসকর্ট রয়েছে রিদওয়ানের মতোই।

অ্যাকাউন্ট ওপেন করেন সেখানে। ওই সাইটে গিয়ে দেখা গেছে এতে তার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। যা দেখলে সহ’জে তার স’ম্পর্কে অনুমেয়। বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ তিনি। তার উচ্চতা ৫ফুট ১০ ইঞ্চি, বয়স ২৮। এতে তিনি ইংরেজিতে যা লিখে’ছেন তার বাংলা হচ্ছে, ‘আমি আপনাকে আমন্ত্রণ জা’নাচ্ছি আমা’র সঙ্গে

আমা’র হট ও উত্তে’জনাপূর্ণ অ’ভিজ্ঞতা অনুসারে প্রকৃত তৃপ্তি দেব। আমি নিরাপদ স’ম্পর্ক করব। আমি স্বাস্থ্য সম্মত ও রোগমুক্ত। আমি খুব পরিষ্কার এবং আপনার কাছেও তা আশা করি।’ শুধু প্রকৃত ক্লায়েন্ট’কে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করে ফোন নম্বর ও মেইলের ঠিকানা দেয়া আছে এতে।

যোগাযোগ করে জা’না গেছে, প্রতি মাসেই অ’পরিচিত পাঁচ-ছয়জন নারী ক্লায়েন্টের কল পান তিনি। বিশ্বা’সযোগ্য হলেই সাড়া দেন। এছাড়া নিয়মিত কিছু ক্লায়েন্ট রয়েছে তার। একইভাবে এরকম একই সাইটে নিজের শুধু দুটি চোখের ছবি দিয়ে সস্তা এসকর্ট বয় হিসেবে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন সুমন আহমেদ নামে এক যুবক।

তিনি উল্লেখ ক’রেছেন, ‘আমি আগ্রহী বলেই এখানে তথ্য দিচ্ছি, আপনি আগ্রহী হলে দ্বিধা ছাড়াই আমাকে কল দিতে পারেন।’ একইভাবে ওবাইস নামে এক যুবক লিখে’ছেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট ও বিশ্বা’সযোগ্য। আপনার বাড়িতে বা অন্য কোথাও নিরাপদে।

এতে শুধু নারীদের যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। লিঙ্কন নামে এক ইস্কর্ট বয় জা’নান, তাদের ক্লায়েন্ট মূলত অ’ভিজাত শ্রেণির ও ফরেনার কিছু নারী। দেশি অ’ভিজাত নারীদের অনেকের স্বামী নেই। ডিভোর্সি অথবা বিধবা। নিঃসঙ্গ বোধ করেন।

তারা মেইল ইস্কর্ট খুঁজেন। গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও ধানমন্ডি এলাকায় এরকম অনেক ক্লায়েন্ট রয়েছে বলে জা’নান তারা। অনেক নারী শুধু শরী’র ম্যাসেইজ করার জন্য সস্তা এসকর্ট বয়দের ডাকেন।

এসব কাজে ঘণ্টা হিসেবে টাকা নেন মেইল ইস্কর্টরা। প্রতি ঘন্টায় ১২ থেকে ৩০ ডলার বা ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা নেন তারা।নারীরা সাধারণত সুঠাম’দেহী, শ্যামলা, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ছে’লেদের বেশি পছন্দ করেন।

এজন্য মেইল ইস্কর্টরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন। সু’স্থ ও শ’ক্তিশালী থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার খান। জেন্টস পার্লারে যান নিয়মিত। তবে মেইল ইস্কর্টদের কেউ কেউ প্রতা’রণা করেন নারীদের সঙ্গে। ইতিমধ্যে তাদের একজনকে গ্রে’প্তার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

তার নাম ফুয়াদ বিন সুলতান। গত ১লা আগস্ট তাকে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে গ্রে’প্তার করা হয়। র‌্যা’­ব জা’নিয়েছে, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সে প’র্নোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করে। তার সঙ্গে অন্তত দেড় শতাধিক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পাওয়া গেছে।

তার ঘরে তল্ লা’ শি চালিয়ে পু’লিশ যা উ’দ্ধার করেছে নানা বয়সের নারীদের সঙ্গে তার অবাধ যৌ*নাচারের ভিডিও ক্লিপিংস, প্রচুর গর্ভনিরোধক ওষু’ধ, প*র্নো*গ্রাফির ভিডিও, কয়েক বাক্স কন্ডোম, নিষিদ্ধ বই, নিজের প’র্নোগ্রাফি।সঙ্গে মেথামফেটামিন, পেনিগ্রা জাতীয় মা’রাত্মক যৌ*ন উ*ত্তেজক ওষু’ধ। শা’রী’রিক সক্ষ’মতা বাড়ানোর জন্য ও বেশিক্ষণ স’ঙ্গম চালানোর জন্য এগু’লি নিয়মিত ব্যবহার করতেন তিনি।

নিজেকে সুলতান অব সে’ক্স দাবি করে সে দাবি করেছে, নারীরা তার কাছে স্বেচ্ছায় আসতেন। তবে র‌্যা’­ব দাবি করেছে, শা’রী’রিক স’ম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে নারীদের ব্ল্যাকমেইল করতো সুলতান। ফুয়াদ বিন সুলতান সাবেক এক উচ্চ পদস্থ পু’লিশ কর্মক’র্তার সন্তান।

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী বলেন, এটি সমাজের চরম অবক্ষয়। সমাজে আইন রয়েছে। ধ’র্ম রয়েছে। যেখানে নিয়ম-নীতির মধ্য দিয়ে জী’বন পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলার জন্যই এসব নিয়ম।

শা’রী’রিক চাহিদার জন্য বৈধ পথেই হাঁটতে হবে। নতুবা এই সভ্যতা অ’ন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। পরিবার প্রথা, স্বামী-স্ত্রী’র ভালোবাসা বিলীন হলে নানা অসঙ্গতি সৃষ্টি হবে।বাইরের দেশের অ’পসংস্কৃতি কোনোভাবেই অনুসরণ করা যাবে না। এজন্য সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জা’নান তিনি।