এমপি দুর্জয় ‘পাপিয়াপাড়ায়’ যেতেন হরহামেশাই

8

স’ম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে মানিকগঞ্জ-১ আসনের এই এমপি নাইমুর রহমান দুর্জয় ও তার ঘনিষ্ঠজনদের নানান অনিয়ম, দু’র্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, বখরাবাজি নিয়ে প্র’কাশিত খবরা-খবরই এখন আলোচনা-স’মালোচনার শী’র্ষে।

দুর্জয়ের নাম আসে আ’লোচিত ‘পাপিয়াকা’ণ্ডেও’। বিষয়গুলো এখন বেশ আ’লোচিত হচ্ছে মানিকগঞ্জেও। আর এসব বিষয়ে সরকারকে পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর অব’স্থায়। অ’ভিযোগ আছে সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই বাড়তি প্র’ভাবকে কাজে লা’গিয়ে দুই হাতে অর্থ উপার্জন ক’রতে শুরু করেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। দুর্জয়ের ঘনিষ্ঠজনদের ‘ভাগ’ না দিলে,

মানিকগঞ্জ ও এর আশেপাশের অঞ্চলে কোন কাজ ক’রতে পারেন না সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদারেরা। অ’ভিযোগ আছে, জে’লার শি’বালয়ের আলোকদিয়ার চরে সোলার বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের কাজ থেমে থাকার নেপথ্যের ‘কারিগর’ খোদ দুর্জয়। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ পেলেও স্থা’নীয় দুর্জয় ম’দদপুষ্টদের দিতে হয় কাজে’র ভাগ।

আর নয়তো প্রকল্প সংশ্লি’ষ্ট বিভিন্ন পণ্য চড়া দামে কিনতে হয় ‘দুর্জয় বা’হিনীর’ কাছ থেকে। উল্লেখিত প্ল্যান্টের মাটি ভরাটের কাজে প্রচলিত বাজার দরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দা’বি করা হয় ঠিকাদারের কাছে। লাভের বদলে লোকসানই হয়ে যাবে, তাই উচ্চ মূল্যে মাটি ভরাটের কাজ ব’ন্ধ ক’রতে হয় ঠিকাদারকে। আরও অ’ভিযোগ আছে,

বিআইডব্লিউটিএর বিশাল টার্মিনাল দখল করে দীর্ঘদিন ধ’রে বালুর ব্যবসা চলছে এমপি দুর্জয়ের নামেই। আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে অ’বৈ’ধভাবে স্পিডবোটের ব্যবসাটিও তার দখলেই। করো’না প’রিস্থিতিতে লকডাউনে ঘাটের দখল নেয় দুর্জয় বা’হিনীর সদস্যরা। মাঝিদের ঘাট থেকে সরিয়ে দিয়ে অমানবিকভাবে নিজে’রা অধিক ভাড়ায় যাত্রী পারাপার শুরু করে। দুর্জয়ের এই অ’পক’র্মে পরিবারের সদস্যদেরও জ’ড়িতে থাকার অ’ভিযোগ রয়েছে।

চাচা জে’লা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তায়েবুর রহমান টিপুর অ’ত্যাচারে শি’বালয় এলাকায় কেউ জমি কিনতে পারছে না। কোনো শিল্পপতি জমি কিনতে গেলেই তিনি চাঁদা দা’বি করেন বলেও অ’ভিযোগ রয়েছে।

বছরের শুরুতেই অন্যতম আ’লোচিত ঘ’টনা মক্ষীরাণী পাপিয়াকে নিয়ে। পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে পাপিয়ার দরবারে নিয়মিত যারা হাজিরা দিতেন তাদের মধ্যে নাঈমুর রহমান দুর্জয় আছেন বলেও অ’ভিযোগ ওঠে। পাপিয়ার স’ঙ্গে তার ছবিও পট্রকাশ পায়। অ’ভিযোগ আছে, এমপি নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ‘লালে লাল’ হওয়া দুর্জয় পাপিয়াপাড়ায় যেতেন হরহামেশাই।

দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দুই দ’ফা নির্বাচন কমি’শন কার্যালয়ে আয়ের বি’স্তারিত তুলে ধ’রে হলফনামা দেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। প্রথম দ’ফা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় দ’ফায় নির্বাচনের আগে যে হলফনামা তিনি দিয়েছেন, তাতে অর্থ-সম্পদ বৃ’দ্ধির প্রমাণ স্পষ্ট।

২০১৪ সালে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সেসময় তার বাৎসরিক আয় ছিল পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর ঠিক পাঁচ বছর পরেই জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, দুর্জয় তার বাৎসরিক আয় দেখান ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা। অর্থ্যাৎ এই সময়ে তার বাৎসরিক আয় বৃ’দ্ধি পায় প্রায় ৮ গুণ।

দুইটি গাড়ির মালিক থেকে হয়েছেন তিনটি গাড়ির মালিক। এরমধ্যে অ’ন্তত একটি অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার। প্রথম দ’ফা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বনেছেন একটি পাওয়ার প্লান্টের পরিচালকও।

অ’ভিযোগ আছে, শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে নিজে’র নামে তো বটেই নামে-বেনামে এবং স্ত্রী’র নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। মালয়েশিয়াতে ক’রেছেন সেকেন্ড হোম।

তবে এসব অ’ভিযোগ অস্বী’কার ক’রেছেন নাইমুর রহমান দুর্জয়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমা’র আয়ের উৎস তো এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দেখবে। এনবিআর দেখুক আয়ের উৎস, আয়ের টাকা কই গেল? আর মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম? সূত্র কী’ বলেন?

পাপিয়া ইস্যুতে দুর্জয় বলেন, যারা বলে (আমা’র নাম) তাদেরকেই জিজ্ঞেস করেন। পাপিয়া ইস্যুতে তো অনেকেরই নাম আ’সছে। সেগুলো নিয়ে ত’দন্তের পর্যায়ে আছে। পাপিয়া ইস্যুতে যদি কিছু বের হয় তখন দেখা যাবে। বের হোক।